পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠান তিনি। সেই চিঠিতে গত এক মাসে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
চিঠিতে মোদি লিখেছেন, চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে নির্বাচনী রায় দিয়েছেন, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুততা, দক্ষতা এবং জনকল্যাণমূলক মানসিকতা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই সাফল্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর পুরো দলকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর বিষয়টি। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু এবং সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলিকেও তিনি স্বাগত জানান। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপগুলি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন মোদি। তিনি লেখেন, দেশের নবজাগরণ, সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন ও আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশে বাংলার ভূমিকা অনন্য। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই বাংলার মাটিতেই ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি প্রথম গর্জে উঠেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এই গানের জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন মোদি। তাঁর দাবি, জল জীবন মিশন ও দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্র প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। রেলওয়ের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন স্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে চিঠির ছবি পোস্ট করে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আস্থা, উৎসাহ ও সহযোগিতা তাঁদের আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।