বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া মহুয়া, দলত্যাগ আইন প্রয়োগের দাবি ও ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগে সরব তৃণমূল নেত্রী
তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে এবার আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুক্রবার ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগের দাবিতে চিঠি জমা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
মহুয়া মৈত্র বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও ব্যক্তির দল নয়, এটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লক্ষ লক্ষ কর্মীর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক সংগঠন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যে যেখানে খুশি যেতে পারে। কিন্তু দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা নেওয়া হবে। আমাকে দেখে মানুষ ভোট দেয়নি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দিয়েছে।”
বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সুরে মহুয়া দাবি করেন, ২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করে নিজেদের এনসিপিআই-এর সদস্য বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, সংবিধান এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনের বিধান অনুযায়ী তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, সংসদীয় দল কোনওভাবে অন্য দলে মিশে যেতে পারে না, শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই সেই সুযোগ রয়েছে।
মহুয়ার বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক সাহসের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, যদি বিদ্রোহী নেতাদের নিজেদের জনপ্রিয়তার উপর এতটাই ভরসা থাকে, তাহলে তাঁরা তৃণমূলের প্রতীক ছেড়ে নতুন দলের প্রতীকে ভোটে দাঁড়িয়ে দেখান। তাঁর দাবি, এই সাংসদরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ হিসেবে মহুয়া দাবি করেন, বিদ্রোহী শিবিরের প্রত্যেক প্রার্থীকে ২৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেউ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায়, আবার কেউ বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগের চাপে দলবদলের পথে হাঁটছেন।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জগদীশ বসুনিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। যদিও তিনি প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
মহুয়ার এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয় এবং বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।