বাজেটের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার সুখবর, উন্নয়নের আশায় রাজ্যবাসী । পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেট পেশের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বড় আর্থিক সহায়তার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির জন্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে। এই ঘোষণার ফলে আসন্ন রাজ্য বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর কিছুদিন পরেই দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজ্যের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
প্রধানমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পাঠানো এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার বিস্তারিত উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জল জীবন মিশন এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পকে গতি দিতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও রেল পরিষেবা ও রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৬০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা দেওয়া এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার উপর জোর দেন। একইসঙ্গে মৎস্য, বস্ত্রশিল্প, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রগুলিকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের এই বিপুল আর্থিক সহায়তা রাজ্যের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক প্রকল্পের সম্প্রসারণ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফলে আসন্ন বাজেটকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে রাজ্যবাসীর মধ্যে।