রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির সার্বিক উন্নয়ন, শিশুদের পুষ্টির মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশকে আরও আধুনিক করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য বাজেটে শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘কুক কাম হেল্পার’ বা রান্নাকর্মীদের মাসিক সাম্মানিক বৃদ্ধি। প্রতিদিন হাজার হাজার পড়ুয়ার জন্য মিড ডে মিল প্রস্তুত করা এই কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে তাঁদের সাম্মানিক মাসিক ১,০০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শিশুদের পুষ্টির বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে মিড ডে মিলের জন্য দৈনিক বরাদ্দ খরচ বাড়িয়ে ১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পড়ুয়াদের আরও উন্নতমানের ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি কলকাতা পৌরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে উন্নত খাদ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে ইস্কনের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নেও বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি ICDS কেন্দ্র, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রান্নার জন্য গ্যাস কানেকশন, উন্নত মানের বাসনপত্র, পরিবেশবান্ধব শক্তির জন্য সোলার প্লেট, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং ওয়াটার পিউরিফায়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গরমের তীব্রতা থেকে পড়ুয়াদের স্বস্তি দিতে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতেও বৈদ্যুতিক পাখা বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে পরিকাঠামোগত বৈষম্যও অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।