হকার উচ্ছেদের পর নতুন উদ্যোগ রেলের, শিয়ালদহ ডিভিশনের স্টেশনগুলিতে বসছে ভ্রাম্যমাণ দোতলা স্টল
রাজ্যজুড়ে রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ ও হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যখন নানা বিতর্ক চলছে, তখনই নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল ভারতীয় রেল। উচ্ছেদ হওয়া স্টেশন চত্বরগুলিকে আরও সুশৃঙ্খল ও আধুনিক রূপ দিতে এবার শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ দোতলা স্টল বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টেশনগুলির প্রবেশপথে নির্দিষ্ট চুক্তির ভিত্তিতে এই স্টলগুলি বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে। এই স্টলগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এগুলি সম্পূর্ণ ‘রেডি টু মুভ’ বা সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে স্টেশন চত্বরে স্থায়ী অবৈধ নির্মাণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
স্টলগুলির নকশাতেও থাকছে আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রতিটি স্টল হবে দোতলা। নিচের তলায় খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে, আর ওপরের তলায় যাত্রীরা বসে খাবার খেতে পারবেন। ইতিমধ্যেই এই দোতলা স্টলের নকশায় অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয় রেল।
হকার উচ্ছেদ অভিযানের পর অনেক যাত্রীর মধ্যেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে স্টেশনে সস্তার খাবারের দোকান উঠে গেলে বেশি দামে খাবার কিনতে হবে। সেই উদ্বেগ দূর করতে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমোদিত এই স্টলগুলিতে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই খাবারের দাম রাখা হবে। পাশাপাশি খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
রেল আধিকারিকদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে স্টেশনগুলির সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, অন্যদিকে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের চুক্তিতে এই স্টলগুলি পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে স্টল মালিকদের রেলের নির্ধারিত সমস্ত নিয়ম ও শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
প্রথম পর্যায়ে কলকাতা ও শিয়ালদহ স্টেশনে এই ভ্রাম্যমাণ দোতলা স্টল চালু করা হবে। যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া এবং প্রকল্পের সাফল্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে শিয়ালদহ ডিভিশনের অন্যান্য স্টেশনেও পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে স্টেশন চত্বরের আধুনিকীকরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।