ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভারতেও। গত কয়েক সপ্তাহে পেট্রল, ডিজেল, সিএনজি এবং রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের জ্বালানি ক্ষেত্রে বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বুধবার এনডিএ-র সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ বছর ধরে ভারতকে শক্তিক্ষেত্রে আত্মনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে কেন্দ্র সরকার। তিনি জানান, লালকেল্লা থেকে ঘোষিত ‘সমুদ্র মন্থন’ প্রকল্পের অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য মিলেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
মোদি আরও বলেন, আগামী দিনে ৫০০ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। সৌরশক্তি উৎপাদনে ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দেশ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। ব্রিডার রিয়্যাক্টর প্রযুক্তিতে ভারতের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে দেশকে আরও বেশি শক্তি-স্বনির্ভর করে তুলবে।
এছাড়াও গ্রিন হাইড্রোজেন ও গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থায় এই দুটি ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার থাকার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সম্প্রতি আন্দামান অববাহিকায় নতুন প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়ায় সেই আশাবাদ আরও জোরালো হয়েছে। কেন্দ্রের আশা, এই অনুসন্ধান সফল হলে ভারতের জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং দেশের শক্তি নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে।