তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। একদিকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি স্নেহ ও সহমর্মিতার বার্তা দিয়েছেন তিনি, অন্যদিকে সদ্য দলত্যাগী সায়নী ঘোষকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছেন।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক আমার সন্তানের মতো। ও যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে থাকে, তাহলে আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই।” তিনি আরও জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত বা কাদা ছোড়াছুড়ির সময় নয়। বরং সকলের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ মেটানোর বার্তা হিসেবে দেখছেন।
তবে সায়নী ঘোষের প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা যায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। তিনি সায়নীকে ‘সুবিধাবাদী’ বলে কটাক্ষ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। কল্যাণের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্ল্যাটফর্ম না পেলে সায়নী ঘোষ এতটা পরিচিতি অর্জন করতে পারতেন না। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের মুখও দেখতে হয়েছিল সায়নীকে। যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হওয়ার পেছনেও দলের নেতৃত্বের অবদান রয়েছে বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়াও লোকসভার স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্পিকারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যিনিই এই পদে থাকুন না কেন, তাঁর নিরপেক্ষ থাকা উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য তৃণমূলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।