তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক রদবদলের আবহে কালীঘাটে দলের কর্মসমিতির বৈঠক ঘিরে শনিবার তৈরি হয় রাজনৈতিক নাটকীয়তা। বৈঠকে একটি সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের মধ্যে তীব্র বাক্বিতণ্ডা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার পক্ষে সওয়াল করেন কুণাল ঘোষ। অন্যদিকে বিষয়টি পরে বিবেচনা করার পক্ষে মত দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মতভেদের জেরেই প্রথমে আলোচনা, পরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। সূত্রের দাবি, এক পর্যায়ে কুণাল ঘোষ অভিষেককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “লেবু কচলে তেতো করবেন না।” এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করেছেন কুণাল ঘোষ। জবাবে কুণাল জানান, “সুমিত দলের কেউ নন। তাঁকে ডিফেন্ড করতে পারব না।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অভিষেককে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনও মন্তব্য করেননি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপ করেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি সকলকে শান্ত থেকে সংগঠনের কাজে মনোনিবেশ করার বার্তা দেন। বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হন। এমনকি বৈঠকের উত্তেজনার আওয়াজ ঘরের বাইরেও শোনা গিয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।
উল্লেখ্য, এই বৈঠকেই দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব পান কুণাল ঘোষ। যুব সংগঠনের সভাপতি হন অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়কেও কর্মসমিতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বৈঠক শেষে এই বিতর্ক নিয়ে দলের কোনও শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।