বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি ও অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। দলীয় ভাঙনের গুঞ্জনের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও এক বিস্ফোরক দাবি। সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ আলাদা ব্লক গঠনের আবেদন জানিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সায়নী ঘোষ, দেব, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে।
এরই মধ্যে তৃণমূলের যুব সংগঠনের দায়িত্ব থেকেও সরে গিয়েছেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। তাঁর পরিবর্তে যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, সায়নী ঘোষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পদত্যাগপত্র না এলেও নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সায়নী ঘোষ। যদিও তিনি প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। সম্প্রতি দিল্লি থেকে ফেরার সময় বিমানবন্দরে মুখ ঢেকে বের হওয়ার ছবি সামনে আসতেই তা নিয়ে কটাক্ষ করতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সবংয়ের পরাজিত প্রার্থী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। তিনি নিজের পরাজয়ের দায় স্বীকার করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেছেন। উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির সফল বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করে তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিও জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক দলত্যাগ, অসন্তোষের প্রকাশ এবং বিদ্রোহের জল্পনা আগামী দিনে রাজ্যের শাসকদলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ফলে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।