বিদ্যুতের বিল হবে শূন্য! সোলার প্যানেল বসাতে মোটা ভর্তুকির ঘোষণা, বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
তীব্র গরমে যখন বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে, তখন বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাসিক বিদ্যুতের বিলও। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে বিদ্যুতের বাড়তি খরচ বড়সড় আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীর জন্য বড় স্বস্তির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান খরচ থেকে দীর্ঘমেয়াদি মুক্তির উপায় হিসেবে তিনি সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার এনার্জির ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করলে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কমে যেতে পারে। এমনকি উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিল কার্যত শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। ফলে এককালীন কিছু বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ খরচে বড় সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।
সোলার প্যানেল স্থাপনে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ভর্তুকির ব্যবস্থাও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০০ ইউনিট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ৩০ হাজার টাকা, ২০০ ইউনিটের জন্য ৬০ হাজার টাকা এবং ৩০০ ইউনিটের জন্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাওয়া যাবে। ফলে তুলনামূলকভাবে কম খরচে বাড়িতে সোলার ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়লে শুধু বিদ্যুতের বিল কমবে না, পরিবেশ দূষণও কমবে। কারণ সৌরশক্তি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস। পাশাপাশি কয়লা বা অন্যান্য প্রচলিত জ্বালানির উপর নির্ভরতাও কমবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশ বাড়তে থাকায় বিকল্প শক্তির উৎস হিসেবে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্বও বাড়ছে। তাই বিদ্যুতের বাড়তি খরচের চাপ থেকে মুক্তি পেতে এবং ভবিষ্যতের জন্য সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে সোলার এনার্জির দিকে ঝুঁকতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার, সরকারি ভর্তুকির সুযোগ কাজে লাগিয়ে কত দ্রুত এই প্রকল্পে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।