Uttam Kumar Brajabasi
উত্তমকুমারের কথা মনে আছে? বাংলার ম্যাটিনি আইডল মহানায়ক উত্তম কুমারকে কে ভুলবে! তবে এই উত্তম বাঙালির হার্ট থ্রব নন, ইনি উত্তমকুমার ব্রজবাসী। অসম সরকারের কাছ থেকে প্রথম এনআরসির নোটিস পাওয়া এ রাজ্যের বাসিন্দা। যা নিয়ে বছর খানেক আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বহু গুণ বেড়ে গিয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁকে হাজির করিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি উত্তমের সব দায়ভার নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সে সব এখন অতীত। রাজনীতিতে তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তাই এখন কেউ আর উত্তমের খোঁজ রাখেন না। পেট চালাতে কোচবিহারের দিনহাটা থেকে শিলিগুড়ি এসে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতে হচ্ছে উত্তমকুমারকে।
দিনহাটা চৌধুরীহাটের উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে এনআরসি নোটিস পাঠিয়েছিল অসম সরকার। নোটিসে বলা হয়, উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে না পারলে তাঁকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। ২০২৫–এর জানুয়ারি মাসে তাঁর বাড়িতে ওই নোটিস আসে। নোটিসটি অসমের গুয়াহাটি জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর থেকে তাঁর কাছে আসে। নোটিসে উল্লেখ করা হয়, অসম ফরেনার্স ট্রাইবুনাল কোর্টে উত্তমের নামে একটি মামলা হয়েছে। ২০২৫–এর জুলাই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে তাঁকে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে হবে। না হলে সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তাঁকে চিহ্নিত করবে। প্রথমে নোটিস পেয়ে কিছু বুঝতে পারেননি উত্তম। কারণ বহু বছর হলো পড়শি রাজ্যের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
প্রতিবেশীরা তাঁকে নোটিসের গুরুত্বের কথা বোঝালে টনক নড়ে উত্তমের। এরপরই জেলা প্রশাসনের কাছে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, প্রথম তাঁকে পাত্তা দেননি প্রশাসনের কর্তারা। সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হতেই নড়েচড়ে বসে তৃণমূল এবং পূর্বতন রাজ্য সরকার। উত্তমের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত উত্তমকে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেন। এমনকী, তৃণমূলের ২১ জুলাই–এর মঞ্চেও ব্রজবাসীকে লাখো মানুষের সামনে তুলে ধরে বিজেপিকে তুলোধোনা করেন মমতা। এরপর দিনহাটায় তৃণমূলের একাধিক সভায় দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু তারপর তোর্সা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। এনআরসি নোটিস নিয়ে অসম সরকার আর উচ্চবাচ্য না করলেও তৃণমূলও আর উত্তমের পাশে থাকেনি।
আজ পর্যন্ত তিনি জাতিগত শংসাপত্র পাননি। পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে কোনও কাজও জোটেনি তাঁর। আর এই পরিস্থিতিতে এখন সংসার চালাতে গ্রাম ও পরিবার ছেড়ে বাইরে কাজ করতে হচ্ছে উত্তমকে। তাঁর স্ত্রী মামনি ব্রজবাসী বলেন, ‘সেই সময়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি। স্বামীর জাতিগত শংসাপত্র পাইনি। পাশাপাশি ওরা কোনও কাজেরও ব্যবস্থা করে দেয়নি। তাই দুই ছেলের পড়াশোনা এবং সংসার চালাতে উনি এখন শিলিগুড়ি গিয়ে নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করছেন।’ গত পাঁচ মাস ধরে উত্তম শিলিগুড়িতে রয়েছেন। রক্ষী হিসেবে যে টাকা পান, তাতেও সংসার ঠিকমতো চলে না। তাই মামনি নিজে অন্যের জমিতে কাজ করেন। বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলছেন, ‘উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে নিয়ে রাজনীতি করেছিল তৃণমূল এবং রাজ্য সরকার। আদতে ওই ব্যক্তির জন্য তারা কিছুই করেনি। বর্তমান সরকারের আমলে তিনি জাতিগত শংসাপত্র পেতে ফের আবেদন করলে সব ঠিকঠাক থাকলে অবশ্যই তা পাবেন।’ তৃণমূলের জেলা নেতা গিরীন্দ্রনাথ বর্মন এবং আব্দুল জলিল আহমেদকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।