বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহ ৪২ শিল্পপতির! শিল্পায়নে জোর শুভেন্দু সরকারের, নজরে ২২ জুনের বাজেট
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরল রাজ্য সরকার। শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়ের দাবি, রাজ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের অন্তত ৪২ জন বিশিষ্ট শিল্পপতি তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরিকাঠামোগত সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দফতরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বাজেট অধিবেশনেই শিল্প ও বাণিজ্য সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার কথা বলে আসছে সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ অশোক লাহিড়ির নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, পরিকাঠামো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের আশা, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
একসময় দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ। স্বাধীনতার সময় দেশের দ্বিতীয় ধনীতম রাজ্য হিসেবে পরিচিত হলেও পরবর্তী কয়েক দশকে শিল্পক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে রাজ্য। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং শিল্পবান্ধব নীতির অভাবের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারেও শিল্পায়নের প্রশ্নকে অন্যতম প্রধান ইস্যু করেছিল বিজেপি।
এদিকে আগামী ২২ জুন বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শিল্প, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা এই বাজেটেই স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল। ফলে শিল্পপতিদের আগ্রহের খবর এবং আসন্ন বাজেটকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে প্রত্যাশা।