মা-ছেলের সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা যেমন থাকে, তেমনই থাকে ছোটখাটো অভিমানও।কখনও তা মুহূর্তের, আবার কখনও বছরের পর বছর মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।জনপ্রিয় অভিনেতা সৌরভ দাসের জীবনেও এমনই এক অভিমান ছিল,যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে বয়ে বেড়িয়েছেন। সম্প্রতি নিজের এবং যিশু সেনগুপ্তের প্রযোজনা সংস্থার নতুন ছবি *‘অভিমান’*-এর প্রচারে এসে সেই ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা ভাগ করে নেন অভিনেতা।ছবির নামের সঙ্গে যেন অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর বাস্তব জীবনের এই গল্পেও।মজার ছলেই বলা সেই অভিমানের গল্প পরে এমন এক আবেগঘন ঘটনায় পরিণত হবে,তা হয়তো নিজেও কল্পনা করেননি সৌরভ।
সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান,ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় বন্ধুদের টিফিন বক্সে নানা ধরনের খাবার দেখে তাঁর খুব ইচ্ছা করত সেরকম কিছু খেতে।কারও টিফিনে থাকত পাস্তা, কারও স্যান্ডউইচ,আবার কারও কাছে থাকত নানারকম ঘরোয়া সুস্বাদু পদ।কিন্তু তাঁর টিফিনে বেশিরভাগ সময়ই থাকত কয়েকটি বিস্কুট।শিশুমনে সেই বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের আক্ষেপ জন্মেছিল।সৌরভের কথায়,তিনি একবার মাকে পাস্তা বানিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁর মা পাস্তা কী,সেটাই ঠিকমতো জানতেন না।পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা বুঝলেও ছোটবেলার সেই অপূর্ণ ইচ্ছা ও খারাপ লাগা কোথাও যেন মনের মধ্যে থেকে গিয়েছিল।তাই বহু বছর পরেও সেই স্মৃতি তাঁর কাছে এক মিষ্টি অভিমানের গল্প হয়ে রয়ে গেছে।
তবে সবচেয়ে আবেগঘন ঘটনা ঘটে এরপর।কোনওভাবে ছেলের মুখে বলা সেই অভিমানের কথা জানতে পারেন সৌরভের মা।ছেলের মন খারাপের কারণ শুনে তিনি আর দেরি করেননি।সঙ্গে সঙ্গেই স্মার্ট পে-র মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন এবং একটি বার্তাও লেখেন।সেখানে তিনি জানান,বিষয়টি জেনে তাঁর খুব খারাপ লেগেছে। এমনকি মজার ছলেই লিখে দেন,ভবিষ্যতেও মাঝে মাঝে তিনি টাকা পাঠাবেন,যাতে ছেলের আর কোনও অভিমান না থাকে।মায়ের এই অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা,যত্ন এবং আবেগে আপ্লুত সৌরভও স্বীকার করেছেন যে ঘটনাটি তাঁকে একই সঙ্গে লজ্জা ও আনন্দ—দুই অনুভূতিতেই ভরিয়ে দিয়েছে।ছোটবেলার সেই টিফিনের অভিমান শেষ পর্যন্ত মায়ের ভালোবাসার কাছেই হার মেনেছে।