সোনা-রুপোর দামে বড় ধস, ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ
সোনা বা রুপো কেনার পরিকল্পনা থাকলে এখনই হতে পারে উপযুক্ত সময়। চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারের প্রভাবেই ভারতের বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন দেখা গিয়েছে। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX) থেকে শুরু করে খুচরো বাজার— সর্বত্রই মূল্যবান এই দুই ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে সাধারণ ক্রেতা, গয়না ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে রুপোর দামে। এমসিএক্সে গত পাঁচ দিনে প্রতি কেজি রুপোর দাম প্রায় ১৩,৪৬০ টাকা কমেছে। শুক্রবার একদিনেই রুপোর দাম কমেছে ৪,৮৩৬ টাকা। বর্তমানে জুলাই এক্সপায়ারি ফিউচার ট্রেডিংয়ে প্রতি কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,৪৬,১৮৬ টাকা। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় এই দাম অনেকটাই কম, যা রুপো ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
খুচরো বাজারেও রুপোর দামে বড় পরিবর্তন এসেছে। ইন্ডিয়ান বুলিয়ন জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ১ কেজি রুপোর দাম ছিল ২,৪২,৫৮২ টাকা। আগের দিনের তুলনায় এই দাম প্রায় ১০,৬০৯ টাকা কম। ফলে রুপোর গয়না, বাসনপত্র বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে রুপো কেনার জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় সময় বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে সোনার বাজারেও একই চিত্র দেখা গিয়েছে। এমসিএক্সে গত পাঁচ দিনে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৩,২৮৯ টাকা কমেছে। শুক্রবার একদিনেই গোল্ড ফিউচারের দাম ২,০৭০ টাকা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে সোনা ক্রেতাদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
বর্তমানে খুচরো বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪৪,৯৭০ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনার দাম রয়েছে ১,৪১,৪৯০ টাকা। এছাড়া ২০ ক্যারেট সোনার দাম ১,২৯,০২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১,১৭,৪৩০ টাকা এবং ১৪ ক্যারেট সোনার দাম ৯৩,৫১০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য সংশোধনের প্রভাবেই এই পতন দেখা গিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনা ও রুপো এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত। তাই যাঁরা গয়না কেনা বা ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য বর্তমান মূল্যস্তর একটি ভালো সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাজারের গতিবিধির উপর নজর রেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।