জামাইষষ্ঠীর আগে সুখবর! বাজারে উঠতে শুরু করেছে মরশুমের প্রথম ইলিশ, দামেও স্বস্তি
জামাইষষ্ঠীর আগে বাঙালির পাতে ইলিশের স্বাদ ফেরাতে বড় সুখবর এল দক্ষিণবঙ্গ থেকে। বহু প্রতীক্ষার পর মরশুমের প্রথম ইলিশ মাছ বাজারে আসতে শুরু করেছে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন নদী ও খাঁড়ি থেকে ধরা পড়া টাটকা ইলিশ ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মরশুমের শুরুতেই ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে নাগালের মধ্যে থাকায় খুশি সাধারণ ক্রেতারা।
মৎস্যজীবীদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা ব্যান পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকেই ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামছেন তাঁরা। মুড়িগঙ্গা, হাতানিয়া-দোয়ানিয়া, সপ্তমুখী-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক নদীতে জাল ফেলতেই ধরা পড়ছে ইলিশ। ফলে নতুন মরশুমের শুরুতেই বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।
বর্তমানে বাজারে পাওয়া অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম। মাছ ব্যবসায়ীদের মতে, মাছের রং, গঠন এবং পেটির আকার দেখে মনে হচ্ছে এবারের মরশুম বেশ ভালোই হতে চলেছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যেও উৎসাহ বাড়ছে। অনেকেই জামাইষষ্ঠীর কেনাকাটার তালিকায় ইতিমধ্যেই ইলিশকে জায়গা করে দিয়েছেন।
বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৮০০ টাকা। বিভিন্ন বাজারে মাছের আকার ও মান অনুযায়ী দামের সামান্য হেরফের হতে পারে। তবে মরশুমের শুরুর দিকের হিসেবে এই দামকে যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক বলেই মনে করছেন ক্রেতারা।
মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গভীর সমুদ্র থেকে ট্রলারগুলি ফিরতে শুরু করলে বাজারে ইলিশের জোগান আরও বাড়বে। সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহগুলিতে ইলিশপ্রেমীদের জন্য আরও সুখবর অপেক্ষা করছে বলে আশা করা হচ্ছে।
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে ১ থেকে ১.২৫ কেজি ওজনের ইলিশের স্বাদ সবচেয়ে ভালো হয়। তবে খুব ছোট আকারের জাটকা বা খোকা ইলিশ কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে যেমন স্বাদের ঘাটতি থাকে, তেমনই পরিবেশ ও মাছের প্রজননের ক্ষেত্রেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
সব মিলিয়ে, জামাইষষ্ঠীর আগে বাজারে রুপোলি শস্যের আগমন বাঙালির উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।