মেসি সফর ঘিরে বিতর্কে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এর আগে তিনবার পুলিশের নোটিস পাওয়ার পরেও হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ফলে তাঁকে ঘিরে গ্রেপ্তারির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছিল রাজনৈতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছন অরূপ বিশ্বাস। তাঁর হাজিরাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই থানার সামনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের অভিযোগ, মেসির সফরের জন্য মোট ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল। তার মধ্যে জোর করে ২২ হাজার টিকিট অরূপ বিশ্বাস নিজে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। অভিযোগ, সেই টিকিট পরে অন্যত্র বিক্রিও করা হয়। শুধু টিকিট বিতর্ক নয়, মেসির নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়েও প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শতদ্রুর দাবি, মেসির নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে চাননি অরূপ বিশ্বাস।
গত ডিসেম্বর থেকেই এই বিতর্ক ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যে পালাবদলের পর অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু দত্ত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠায় পুলিশ। তবে পরপর তিনবার হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার পর অবশেষে তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হলেন।
যদিও এই মামলায় ইতিমধ্যে হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত। তবে তদন্তে তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মেসির নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিমও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতির সময় মাঠে কোনও ভিআইপি থাকার কথা ছিল না। কিন্তু সেই নিয়ম ভেঙে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মাঠে ঢোকেন বলে অভিযোগ। মেসির খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক যোগাযোগের অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে মেসি কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসের হাজিরা তদন্তে নতুন মোড় আনল।