১১০ দিনের সংঘাতের অবসানের পথে! ইরান-আমেরিকার শান্তিচুক্তিতে খুলছে হরমুজ প্রণালী, স্বস্তির বার্তা বিশ্বে
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহে বড়সড় কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি সামনে এল। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে এক গুরুত্বপূর্ণ শান্তিচুক্তিতে সই করল ইরান ও আমেরিকা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ভোরে স্বাক্ষরিত হয় ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর ভার্সাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এই চুক্তির ঘোষণা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা হয়েছে এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার পথও প্রশস্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এই জলপথে স্বাভাবিক চলাচল শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানির দাম স্থিতিশীল হলে তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছাতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রনেতাদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে। তাঁর মতে, কাগজে-কলমে চুক্তির চেয়ে মাঠে তার প্রয়োগ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তিটি কার্যকর হলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া প্রায় ১১০ দিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা শুধু যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে পারে।
এখন নজর আগামী ৬০ দিনের আলোচনার দিকে। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশকে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির খসড়া নিয়ে একমতে পৌঁছতে হবে। সেই প্রক্রিয়া সফল হলে আরব বিশ্বে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে, পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিও পেতে পারে বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তির বার্তা।