ফের যুদ্ধের দামামা মধ্যপ্রাচ্যে, আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের! বাড়ছে বড় সংঘাতের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আবহ ঘনীভূত হয়েছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ায় গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একের পর এক পাল্টা হামলা, কড়া হুঁশিয়ারি এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।
খবর অনুযায়ী, শনিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডারের পাশাপাশি উপকূলবর্তী কয়েকটি রাডার কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। তবে এই বিষয়ে এখনও আমেরিকার পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
এর পাল্টা জবাব দিতে রবিবার ইরান কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যদিও কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সক্রিয় হয়ে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ফলে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসেনি।
ঘটনার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এক কড়া বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করেছে, আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার ফল হিসেবে ওয়াশিংটনকে ‘নরকযন্ত্রণা’ ভোগ করতে হবে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত আরও তীব্র হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার, জ্বালানির দাম, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসংঘ-সহ একাধিক দেশ দুই পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইরান ও আমেরিকার পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এখন গোটা বিশ্বের নজর ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে, কারণ সামান্য ভুল পদক্ষেপও মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।