বলিউডে সলমন খানকে ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই।তবে যাঁরা তাঁর সঙ্গে কাছ থেকে কাজ করেছেন,তাঁদের অনেকেরই দাবি—পর্দার ‘ভাইজান’-এর চেয়েও বাস্তবের সলমন অনেক বেশি মানবিক।সম্প্রতি *বজরঙ্গি ভাইজান* ছবিতে ‘কুরেশি’ চরিত্রে অভিনয় করা প্রবীণ অভিনেতা মনোজ বক্সী শুটিং সেটের এমন এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন,যা শুনে অবাক হয়েছেন অনেকে।তাঁর কথায়,ছবির একটি দৃশ্যে ছোট্ট ‘মুন্নি’ অর্থাৎ হর্ষালি মলহোত্রাকে মুরগির মাংস খেতে খেতে হাসতে হতো।কিন্তু মুখে বড় টুকরো থাকায় বারবার শট নষ্ট হচ্ছিল।তখন পরিচালক কবীর খানের নির্দেশ ছিল,প্রয়োজনে মুখের খাবার বের করে আবার নতুন করে শট নেওয়া হবে।ঠিক সেই সময় সলমন খান নিজেই এগিয়ে এসে নিজের হাত বাড়িয়ে দেন,যাতে ছোট্ট হর্ষালি নির্দ্বিধায় তাঁর হাতেই খাবার ফেলে দিতে পারে।মনোজের মতে,প্রায় ২০ বার তিনি একইভাবে সাহায্য করেছিলেন,যা একজন সুপারস্টারের কাছে সত্যিই বিরল ঘটনা।
মনোজ বক্সীর দাবি,হর্ষালি সলমনের নিজের মেয়ে না হলেও তিনি ঠিক একজন অভিভাবকের মতোই তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।এত বড় তারকা হয়েও কোনওরকম অহংকার না দেখিয়ে শিশুশিল্পীর স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি।এই ঘটনাই প্রমাণ করে,ক্যামেরার সামনে নয়,ক্যামেরার বাইরেও সলমনের ব্যক্তিত্ব কতটা বড়।মনোজ আরও বলেন,মানুষ তাঁকে নিয়ে নানা মত প্রকাশ করতেই পারেন,কিন্তু সেটে তাঁর আচরণ সবসময়ই ছিল আন্তরিক,সহযোগিতাপূর্ণ এবং স্নেহভরা।সেই কারণেই সহকর্মীদের কাছে সলমন শুধুমাত্র একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন,বরং একজন বড় মনের মানুষ হিসেবেও পরিচিত।
একই সাক্ষাৎকারে মনোজ আরও একটি মজার ঘটনার কথা জানান।*বজরঙ্গি ভাইজান*–এর শুটিং চলাকালীন সলমন পুরো ইউনিটকে নিয়ে *ডলি কি ডোলি* দেখতে সিনেমা হলে গিয়েছিলেন।ছবি শেষ হওয়ার পর বাইরে অপেক্ষা করছিল হাজার হাজার অনুরাগী।পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সলমন নিজেই বাইরে গিয়ে অনুরাগীদের সঙ্গে দেখা করেন।তাঁকে একবার সামনে দেখেই উত্তেজিত জনতা শান্ত হয়ে যায়।এদিকে বর্তমানে সলমন তাঁর নতুন অ্যাকশনধর্মী ছবি **এসভিসি৬৩**-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত। বংশী পেইডিপল্লীর পরিচালনায় এই ছবিতে প্রথমবার তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে নয়নতারাকে।সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ২০২৭ সালের ঈদে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।