২০২৭ সালের শুরুতেই ভারত সফরে আসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন তিনি। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। শনিবার এক সাক্ষাৎকারে রুবিয়ো জানান, ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই এই দ্বিপাক্ষিক সফর বাস্তবায়িত হতে পারে।
মার্কো রুবিয়ো আরও জানান, এই সফরের প্রস্তুতি এবং আনুষ্ঠানিক সূচি চূড়ান্ত করতে চলতি বছরের শেষের দিকে তিনি নিজেও আরও একবার ভারত সফরে আসতে পারেন। তাঁর মতে, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন বিদেশসচিব। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান গড়ে তুলতে মোদির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুবিয়ো আরও জানান, আগামী দিনে ‘কোয়াড’ (QUAD) গোষ্ঠীর পরবর্তী বৈঠকের রূপরেখা তৈরির কাজও দ্রুত শুরু হবে। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত এই জোট ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু প্রতীকী গুরুত্বই বহন করবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও এই সফরের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। এখন দুই দেশের পক্ষ থেকেই সম্ভাব্য সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও চূড়ান্ত সূচির দিকে নজর রয়েছে।