১১৮ বছরের পুরনো কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ ফের চালুর উদ্যোগ, বড় পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১১৮ বছরের পুরনো কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE) পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। একসময় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুঁজিবাজার হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষ্ক্রিয়। রাজ্য সরকারের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে কলকাতার আর্থিক গুরুত্ব পুনরুদ্ধার হবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ খুলে যাবে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত জানান, কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জকে নতুনভাবে চালু করার লক্ষ্যে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে রাজ্য সরকার। কলকাতাকে আবারও দেশের অন্যতম আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ দেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম স্টক এক্সচেঞ্জ। স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তী কয়েক দশক ধরে এটি পূর্ব ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। পাট, চা, কয়লা, ইঞ্জিনিয়ারিং ও উৎপাদন শিল্পের বহু সংস্থার শেয়ার লেনদেন হতো এই এক্সচেঞ্জে।
একসময় সিএসই-তে ৯০০-রও বেশি ব্রোকার সক্রিয় ছিলেন এবং লক্ষাধিক বিনিয়োগকারী এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেন। তবে ইলেকট্রনিক ট্রেডিং ব্যবস্থার প্রসার এবং জাতীয় স্তরের স্টক এক্সচেঞ্জ এনএসই ও বিএসই-র আধিপত্য বৃদ্ধির ফলে সিএসই ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে শুরু করে।
২০১৩ সালে নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘন, দুর্বল প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো, কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার ত্রুটির অভিযোগে সেবি এক্সচেঞ্জটির লেনদেন স্থগিত করে। পরে আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এনএসই এবং বিএসই-র সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে না। তবে ফিনটেক, এসএমই তালিকাভুক্তি এবং আঞ্চলিক শিল্প সংস্থাগুলিকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলতে পারলে সিএসই আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাই এই উদ্যোগকে শুধু একটি স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা নয়, বরং পূর্ব ভারতের আর্থিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।