মহিলা ক্রিকেটারদের পেশাদার জীবনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে বড় উদ্যোগ নিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।গর্ভাবস্থা,সন্তান জন্মদান এবং তার পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটে ফেরার পথকে আরও নিরাপদ,পরিকল্পিত ও সহায়ক করে তুলতে চালু করা হচ্ছে নতুন‘রিটার্ন টু প্লে পোস্ট প্রেগন্যান্সি’গাইডলাইন।দীর্ঘদিন ধরেই বহু মহিলা ক্রীড়াবিদ মাতৃত্ব এবং কেরিয়ারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।অনেক ক্ষেত্রেই সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁদের খেলোয়াড়ি জীবনে প্রভাব ফেলে।সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই আইসিসি এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে,যাতে কোনও ক্রিকেটারকে আর মাতৃত্ব এবং পেশাদার কেরিয়ারের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়।নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক ও পারিবারিক প্রয়োজনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইসিসির মেডিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটি এবং অস্ট্রেলিয়া মহিলা দলের চিকিৎসক ডক্টর ফিলিপা ইঙ্গের নেতৃত্বে এই গাইডলাইন তৈরি হয়েছে।পাশাপাশি সদস্য দেশগুলিকে নিজেদের দেশের আইন ও ক্রীড়া কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি তৈরির জন্য একটি মডেল ফ্রেমওয়ার্কও পাঠানো হয়েছে।নতুন নির্দেশিকায় গর্ভবতী ক্রিকেটারদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ,অনুশীলনের ধরনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত সহায়তার বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।আইসিসির মতে, প্রত্যেক ক্রিকেটারের শারীরিক অবস্থা ও চাহিদা আলাদা,তাই তাঁদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।এর ফলে গর্ভাবস্থার সময়ও খেলোয়াড়রা নিজেদের ভবিষ্যৎ কেরিয়ার নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারবেন এবং ক্রিকেট থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকার আশঙ্কাও কমবে।
এই ‘রিটার্ন টু প্লে’ মডেলটি মোট ছয়টি ধাপে ভাগ করা হয়েছে— রেডি,রিভিউ,রিস্টোর,রিকন্ডিশন,রিটার্ন এবং রিফাইন।সন্তান জন্মের পর ধাপে ধাপে শারীরিক সুস্থতা ফিরে পাওয়া,ফিটনেস পুনর্গঠন,অনুশীলনে ফেরা এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াটিই এর আওতায় রাখা হয়েছে।আইসিসির সুপারিশ অনুযায়ী,প্রত্যেক গর্ভবতী ক্রিকেটারের জন্য একজন বিশেষ‘কেস ম্যানেজার’নিয়োগ করা হবে,যিনি চিকিৎসক বা ফিজিও হতে পারেন।তিনি পুরো সময় খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্য,অনুশীলন এবং মানসিক অবস্থার উপর নজর রাখবেন।এছাড়া শিশুর পরিচর্যার সুবিধা,সফরকালীন সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থাও থাকবে। আইসিসির আশা,এই নতুন উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে মহিলা ক্রিকেটারদের আরও নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি কেরিয়ার গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।