বুধবার সকালে আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অফিসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। আলিপুর কোর্টের পাশের এই বহুতল সরকারি ভবন থেকে হঠাৎই কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অফিস চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যাচ্ছে, ভবনের চার তলা, পাঁচ তলা এবং ছ’তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ। আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছতে এবং ধোঁয়া বের করার জন্য ভবনের কাচ ভাঙতে হয় দমকল কর্মীদের। ঘন কালো ধোঁয়ার কারণে দমকলের কাজেও কিছুটা সমস্যা তৈরি হয় বলে জানা যাচ্ছে।
স্বস্তির খবর, দমকল কর্মীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ভবনের ভিতরে কারও আটকে থাকার খবর নেই। তবে আগুন লাগার সময় অফিসে কতজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পরই নিরাপত্তার কারণে আশপাশের অংশ খালি করে দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, এসি-তে শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের পরেই আগুন লাগার আসল কারণ স্পষ্ট হবে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা অফিসের সামগ্রীর কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আলিপুরের মতো ব্যস্ত এলাকায় এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের চলাফেরাতেও প্রভাব পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে সহযোগিতা করেন। আগুন যাতে অন্য অংশে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অফিসে এই অগ্নিকাণ্ড নতুন করে সরকারি ভবনগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কীভাবে আগুন লাগল, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করেছিল কি না, এবং ভবনে নিরাপত্তা প্রোটোকল মানা হয়েছিল কি না, সেই সব দিকই এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।