sayoni ghosh
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভাঙনের জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এবার সেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। প্রাক্তন তৃণমূল নেতা ঋজু দত্তের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, “সাংসদ সায়নী ঘোষ এবারে নাম লেখালেন বিদ্রোহী সাংসদদের শিবিরে।” এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সায়নী ঘোষ। যদিও এই বিষয়ে সায়নীর তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য সামনে আসেনি। তবে ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, সম্প্রতি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা দলীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সায়নী এবং সেখানেই তাঁকে তৃণমূল মহিলা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
দলীয় সূত্রের দাবি, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন সায়নী ঘোষ। অন্যদিকে, লোকসভায় তৃণমূলের একাংশ সাংসদ পৃথক ব্লক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও খবর। সেই ব্লকের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সূত্রের দাবি, সোমবার রাত পর্যন্ত ওই চিঠিতে ১৬ জন সাংসদের স্বাক্ষর ছিল।
এদিকে তৃণমূলের জন্য আরও বড় ধাক্কা আসে যখন রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব পদত্যাগ করেন। প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত দলীয় অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন সুস্মিতা দেব।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।