দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার। নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবার থেকে আর সব পুজো কমিটি সমানভাবে সরকারি অনুদান পাবে না। ক্লাবগুলির আর্থিক প্রয়োজন ও সক্ষমতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে সরকারি সাহায্যের পরিমাণ।
সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন ভাতা ও অনুদান প্রকল্পের পর্যালোচনা শুরু হয়েছিল। সেই আবহে দুর্গাপুজোর অনুদান চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজ্যের হাজার হাজার পুজো কমিটির মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় পরিষ্কার হয়েছে যে অনুদান প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না, তবে তার বণ্টন পদ্ধতিতে আসছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব ক্লাব মূলত সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করে এবং যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তারাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাহায্য পাবে। অন্যদিকে, বড় বাজেটের পুজো কমিটি বা যেসব ক্লাবের নিজস্ব তহবিল ও পর্যাপ্ত স্পনসরশিপ রয়েছে, তাদের আর সরকারি অর্থ দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রথমবার দুর্গাপুজোর জন্য সরকারি অনুদান চালু করা হয়েছিল। তখন প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই অনুদানের পরিমাণ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছায়। ফলে এই খাতে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরেই বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক চলছিল। সমালোচকদের একাংশের মতে, কোটি টাকার বাজেটের পুজো আয়োজকদের সরকারি অর্থ দেওয়ার বদলে সেই অর্থ সমাজকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা উচিত।
নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত সেই বিতর্কের মধ্যেই এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের দাবি, প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে এমন পুজো কমিটিগুলির কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই নীতির মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, এই লক্ষ্যভিত্তিক অনুদান ব্যবস্থা চালু হলে রাজ্যে দুর্গাপুজোর সংখ্যা ও অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।