রাজ্যজুড়ে বেআইনি হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক যখন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তখন বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ফুটপাথ মূলত সাধারণ পথচারীদের চলাচলের জন্য। তাই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানোর অধিকার কারও নেই এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রশাসন কাজ করবে।
গত কয়েক সপ্তাহে হাওড়া, শিয়ালদহ, যাদবপুর, বালিগঞ্জ, দমদম-সহ কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বেআইনি হকার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বহু নাগরিক। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তায় নেমে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছিলেন পথচারীরা, যার ফলে যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছিল।
অন্যদিকে, এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরব হয়েছে। তাঁদের দাবি, হকারদের জীবিকা কেড়ে নিয়ে গরিব মানুষের উপর অন্যায় করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় বামপন্থী সংগঠন ও বিরোধী কর্মীরা আন্দোলনে নেমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জনস্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার জনগণের আছে। সেই ফুটপাথ জবরদখল করার অধিকার কারও নেই।” পাশাপাশি তিনি জানান, নিউ মার্কেট, রাজাবাজার, খিদিরপুর কিংবা মেটিয়াবুরুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
তবে কেবল কঠোর অবস্থান নয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিচয় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, যেখানে সরকারি ফাঁকা জমি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা হচ্ছে না, সেখানে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও হকারদের জন্য শ্রমদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ফলে একদিকে পথচারীদের স্বার্থ রক্ষার বার্তা যেমন স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে হকারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশার আলো দেখা দিয়েছে।