রাজ্যে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালু হওয়ার পর থেকেই নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে বেসরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা। বিজেপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগম (WBTC), দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (SBSTC) এবং উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (NBSTC)-র বাসে মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও এর জেরে বেসরকারি বাস মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
বাস মালিক সংগঠনগুলির দাবি, সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রার সুযোগ থাকায় বহু মহিলা যাত্রী এখন বেসরকারি বাসের বদলে সরকারি বাসে যাতায়াত করছেন। ফলে বিভিন্ন রুটে বেসরকারি বাসের যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুগ্ম বাস সিন্ডিকেট পরিষদের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এই পরিষেবা চালুর পর থেকে প্রতিটি বেসরকারি বাসে দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক চাপে থাকা পরিবহণ শিল্পের জন্য এই ক্ষতি বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, ডিজেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অল বেঙ্গল বাস ও মিনিবাস কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানান, শুধু চলতি বছরের মে মাসেই ডিজেলের দাম লিটারপিছু প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। অথচ ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে বাসভাড়ায় কোনও বড় সংশোধন করা হয়নি। ফলে আয় কমা এবং ব্যয় বাড়ার দ্বৈত চাপে নাজেহাল বাস মালিকরা।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের কাছে ‘কিলোমিটার স্কিম’ চালুর দাবি তুলেছে বিভিন্ন বাস সংগঠন। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি বাসগুলিকে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে প্রতি কিলোমিটার চলাচলের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ভর্তুকি বা পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। বাস মালিকদের দাবি, এতে যাত্রী কমলেও তাঁদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং পরিষেবাও সচল রাখা সম্ভব হবে।
পরিবহণ মহলের মতে, সরকারি ও বেসরকারি বাসের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থার ওপর তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। এখন সকলের নজর রাজ্য সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।