Abhishek Banerjee’s house in Kalighat
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশ। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী ওই বাড়িতে পৌঁছে যায় শনিবার ভোররাতেই। দীর্ঘ ক্ষণ ডাকাডাকির পর তারা তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। গোটা বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পটুয়াপাড়ার বাড়ি ঘিরে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সকাল ৮টার পর পুলিশ বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তখন চলে যান মমতা। অভিষেক বেরিয়ে বলেন, ‘‘তালা ভেঙে ঢুকে পুরো বাড়ি ওরা সার্চ করেছে। সব রেকর্ড রয়েছে।’’
সূত্রের খবর, শালবনি থানার পুলিশ অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিল। ছিলেন মহিলা আধিকারিকেরাও। কোন মামলায় এই তৎপরতা, এখনও স্পষ্ট নয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর ৩টের কিছু পরেই পুলিশ বাহিনী অভিষেকের বাড়ির সামনে পৌঁছোয়। তখন থেকেই সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশের একাধিক গাড়ি সেখানে দাঁড় করানো হয়। এর পর আধিকারিকেরা বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি করা হয়। দীর্ঘ ক্ষণ পর তাঁরা তালা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পুলিশ সেখানে ছিল। বাইরে প্রচুর সংখ্যায় ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। সকাল ৭টার পর পুলিশ আধিকারিকেরা কয়েক জন অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। বাইরে তাঁরা বেশ কিছু ক্ষণ আলোচনা করেন নিজেদের মধ্যে। পরে আবার ভিতরে ঢুকে যান। শেষে ৮টার পর তাঁরা বাড়ি ছাড়েন।
রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি বৃহস্পতিবারই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর সে দিন সন্ধ্যায় অভিষেক ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন। বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে তাঁকে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। রাত সাড়ে ১১টার পর ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে অভিষেক কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। ওই মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছে, দু’সপ্তাহ পরে মামলাটি ফের শোনা হবে।
তত দিন পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে সিআইডি কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে অভিষেককেও তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। এর পর শুক্রবার ফের অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডি। তবে এ বার অন্য মামলায়। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সল্টলেকে সাইবার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই তদন্তের সূত্রে সিআইডি ফের কালীঘাটে হানা দেয়। অভিষেককে নোটিস ধরাতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তবে অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না। দীর্ঘ ক্ষণ তাঁদের সেখানেই অপেক্ষা করতে হয়। পরে অভিষেক ফিরলে তাঁর হাতে নোটিস ধরায় সিআইডি। আগামী ১৬ জুন তাঁকে তলব করা হয়েছে। তার আগে সই-কাণ্ডে ফের অভিষেককে ভবানী ভবনে যেতে বলা হয়েছে ১৪ জুন। অভিষেক জানিয়েছেন, তিনি যাবেন। এ ছাড়া, ১৫ জুন প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে অভিষেককে তলব করেছে ইডি। শুক্রবার দীর্ঘ টানাপড়েনের পর এ বার শনিবার ভোর থেকে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির সামনে সক্রিয় হয় পুলিশ। শালবনির আধিকারিকদের সঙ্গে ছিল কালীঘাট থানার পুলিশও।