কলকাতায় ফিরতে পারে আধুনিক দ্রুতগামী ট্রাম, একাধিক নতুন বাস পরিষেবার ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রীর
কলকাতা শহরের ঐতিহ্যবাহী ট্রামকে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানালেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, শহরের যানজট কমাতে এবং পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে দ্রুতগামী ট্রাম চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
মন্ত্রী বলেন, “ট্রাম কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। আমরা চাই এই ঐতিহ্য বজায় থাকুক। তাই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দ্রুতগতির ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই ধরনের ট্রাম চালু হলে যানজটের সমস্যাও অনেকটাই কমবে বলে আশা করছি।”
শুধু ট্রাম নয়, রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। অর্জুন সিং জানান, ইতিমধ্যেই ৫০টি নতুন ইলেকট্রিক বাস রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় চার্জিং স্টেশন তৈরির কাজ চলছে। সমস্ত প্রস্তুতি শেষ হলেই নির্দিষ্ট রুটে এই বাস পরিষেবা চালু করা হবে।
সরকারি বাস পরিষেবা সম্প্রসারণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন পরিবহণমন্ত্রী। তিনি জানান, ঘোষপাড়া রোড ছাড়াও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সোদপুর মুড়াগাছা থেকে কল্যাণী এইমস পর্যন্ত সরকারি বাস চালু করা হবে। পাশাপাশি কাঁচরাপাড়া থেকে ব্যারাকপুর কোর্ট, ব্যারাকপুর কোর্ট থেকে এসপ্ল্যানেড এবং কাঁচরাপাড়া থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত ৮৫ নম্বর বাসরুট পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টোটো চলাচল নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়ম ভেঙে বড় রাস্তায় টোটো চালানোর দিন শেষ। পাশাপাশি বাস মালিকদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দেন, বাস চালানোর জন্য কোনও ধরনের ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ দিতে হবে না।
এদিন ব্যারাকপুরের নোনা চন্দনপুকুর এলাকায় পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রীর নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। মন্ত্রী জানান, পরিবহণ ও শ্রম দফতর সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য আর ব্যারাকপুরের মানুষকে কলকাতায় যেতে হবে না। স্থানীয় স্তরেই অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লকেট চ্যাটার্জি, রাজেশ কুমার, কৌস্তব বাগচী, তাপস ঘোষ-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।