রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্তে সিআইডি, আড়াই মাস পর বড় সিদ্ধান্ত
বাংলা টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় এল। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর এই বহুচর্চিত মামলার তদন্তভার রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীঘায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এই ঘোষণা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গত এপ্রিল মাসে দীঘা-ওড়িশা সীমান্ত এলাকায় একটি বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সম্ভাব্য গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। ফলে এই মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়।
অভিনেতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি ওড়িশা সরকারও ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই মামলার সমস্ত নথি দ্রুত স্বরাষ্ট্র দফতরের মাধ্যমে সিআইডির কাছে পাঠানো হবে এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।
সম্প্রতি এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হস্তক্ষেপের পর তদন্তে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে টলিপাড়ার একাংশের দাবি, আউটডোর শুটিংয়ের সময় শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল বা লাইফগার্ড ছাড়া কীভাবে জলের ধারে শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দীঘার স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা, আইসিইউ সুবিধা এবং জরুরি অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়াতে নুলিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার আশ্বাসও দেন তিনি।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে কোনো গাফিলতি বা অন্য কোনো কারণ—সিআইডি তদন্তের পরই সেই সত্য সামনে আসবে বলে আশা করছেন তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীরা।