দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। তোলাবাজি, জালিয়াতি, জবরদখল এবং হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এই প্রভাবশালী নেতাকে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা (এআরএস)। তাঁর গ্রেপ্তারিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কসবার রুবি মোড় ও আনন্দপুর থানা এলাকার ফুটপাথের হকারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগে সুশান্ত ঘোষ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ, সুশান্ত ঘোষ ও তাঁর ডানহাত হিসেবে পরিচিত সুজিত কুমার পাল ওরফে ‘বচ্চন’ প্রায় ৩ কোটি টাকার একটি তোলাবাজি চক্র পরিচালনা করতেন। হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা হতো বলেও অভিযোগ ওঠে।
এর পাশাপাশি জাল পুরসভার লাইসেন্স দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগও সামনে আসে। একাধিক অভিযোগের তদন্ত শুরু হতেই আত্মগোপন করেন সুশান্ত ঘোষ। এরপর তাঁর খোঁজে কলকাতা পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালাতে শুরু করে।
তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুশান্তের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ‘বচ্চন’-কে। তাকে জেরা করে, কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং সাইবার সেলের সহায়তায় তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে সুশান্ত ঘোষ ওড়িশার পুরীর একটি হোটেলে পরিচয় গোপন করে অবস্থান করছেন। সেই সূত্র ধরেই সেখানে পৌঁছে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিশেষ দল।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় আদালতে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে কলকাতায় আনা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তকারীদের মতে, এই তোলাবাজি ও জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।
একসময় কসবা ও আনন্দপুর এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সুশান্ত ঘোষ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে তাঁর অনুমতি ছাড়া এলাকায় কোনও কাজ এগোত না। তবে একের পর এক দুর্নীতি, তোলাবাজি ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে থাকে। এবার গ্রেপ্তারের পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।