পর্তুগালের সাম্প্রতিক ম্যাচে কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্স ঘিরে নতুন করে আলোচনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।প্রত্যাশা ছিল তিনি দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন,কিন্তু বাস্তবে পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি ছিলেন নিষ্প্রভ। আক্রমণ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন এবং প্রথমার্ধে তাঁর বল স্পর্শের সংখ্যাও ছিল কম।গোলের জন্য প্রয়োজনীয় ছন্দ তৈরি করতে না পারায় পর্তুগালের আক্রমণভাগ বারবার থমকে যায়।সমালোচকরা বলছেন, কঙ্গোর সুসংগঠিত রক্ষণভাগ তাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে,যেখান থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে পারেননি।
ম্যাচের পর থেকেই তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে ফুটবল মহলে।থিয়েরি অঁরি ও টনি ক্যাসকারিনোর মতো প্রাক্তন তারকারা খেলার ধরন ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।অঁরি মনে করেন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক অবস্থানে না থাকায় আক্রমণ আরও কার্যকর হয়নি।অন্যদিকে ক্যাসকারিনো সরাসরি আঙুল তুলেছেন বয়স ও ফর্মের দিকে,দাবি করেছেন আগের মতো গতি ও শক্তি আর নেই।পাশাপাশি কোচ রবার্তো মার্টিনেজকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে,যেখানে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তিনি কি বড় নামের প্রভাবেই দল পরিচালনা করছেন।
তবে সমালোচনার মাঝেও নিজের অবস্থানে অনড় রোনাল্ডো ও কোচ মার্টিনেজ।মার্টিনেজ জানিয়েছেন এমন ম্যাচে বিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে পুরো সময় মাঠে রাখাই যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত ছিল,কারণ যেকোনো মুহূর্তে তিনি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন।অন্যদিকে রোনাল্ডো বলেছেন ফুটবলে জয় পরাজয় স্বাভাবিক,সুযোগ এলেও ফল ভিন্ন হতে পারত।তবে বাস্তবতা হলো গত কয়েক ম্যাচে গোলহীন থাকা এই তারকার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ বাড়ছে,এবং ব্যাডপ্যাচ কাটিয়ে না উঠলে চাপ আরও বাড়বে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে,দলে নতুন কৌশল প্রয়োগ না করলে পর্তুগালের আক্রমণভাগ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং রোনাল্ডোর চারপাশে সাপোর্টিং স্ট্রাকচার শক্ত করা এখন সময়ের দাবি।আগামী ম্যাচগুলো তাই কোচ মার্টিনেজের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমর্থকরা আশা করছেন দল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং বিশ্বমানের পারফরম্যান্স ফিরিয়ে এনে আবারও শিরোপার দৌড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করবে,এই লক্ষ্য এখন অত্যন্ত জরুরি হবে নিশ্চয়।