বিহারের বেগুসরাই জেলায় এক গৃহবধূর উপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, গভীর রাতে পাঁচজন দুষ্কৃতী জোর করে বাড়িতে ঢুকে ওই মহিলার স্বামীকে একটি ঘরে আটকে রেখে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চাকিয়া থানা এলাকার একটি গ্রামে।
নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি বাড়ির বাইরে শৌচাগারে গিয়েছিলেন। সেই সময় কয়েকজন যুবক তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। প্রথমে বাড়ির মালিককে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। এরপর ওই গৃহবধূ ঘরে ঢুকতেই তাঁকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
মহিলার দাবি, তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁকে মারধর করে এবং ধারাল অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। পরে কোনওভাবে অভিযুক্তদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। তাঁর ননদ এসে প্রথমে ঘরে আটকে থাকা স্বামীকে উদ্ধার করেন। এরপর গুরুতর জখম অবস্থায় ওই মহিলাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করায় তাঁকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিস্তারিত শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার সময় চিকিৎসকরা গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীর থেকে একাধিক বিদেশি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ঘটনার ধাক্কা ও শারীরিক আঘাতের কারণে নির্যাতিতা কিছু বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
নির্যাতিতা আরও অভিযোগ করেছেন, কয়েক মাস আগেও তাঁর সঙ্গে যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় পুলিশে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত জোরকদমে চলছে। নির্যাতিতার বয়ান ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের আশ্বাস, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।