সিঙ্গুরে ফের শিল্পায়নের ইঙ্গিত, বড় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর ফের সিঙ্গুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রীের সভার প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার জানান, আগামী দিনে সিঙ্গুরে বড় শিল্প প্রকল্প গড়ে তোলা হবে এবং সেখানে নতুন করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে সিঙ্গুরকে ঘিরে নতুন করে শিল্পায়নের আশা তৈরি হয়েছে।
অজয় পোদ্দার বলেন, সিঙ্গুরকে আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেখানে বড় শিল্প কারখানা, উৎপাদন কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর ফলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। টাটা গোষ্ঠী ফের সিঙ্গুরে বিনিয়োগ করতে পারে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার নাম উল্লেখ না করলেও জানান, শুধু টাটা নয়, আরও বহু বড় শিল্পগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাতে পারে।
সিঙ্গুরের শিল্পায়ন প্রসঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ি কারখানা স্থাপনের জন্য সেখানে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কারখানার পরিকাঠামো নির্মাণের কাজও অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জমি আন্দোলন, রাজনৈতিক বিরোধ এবং বিভিন্ন বিতর্কের কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই গুজরাতের সানন্দে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে সিঙ্গুরে শিল্পায়নের স্বপ্ন থমকে যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে রাজ্য নেতৃত্ব। এর আগেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে।
অজয় পোদ্দারের মতে, নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে সিঙ্গুরকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। শিল্পায়নের ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির প্রসার ঘটবে। তাঁর দাবি, সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।