Arambagh Municipality Swapan Nandi arrested
গোঁফ কেটেও হল না শেষ রক্ষা! কেরল থেকে গ্রেপ্তার আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপন নন্দী। গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে আরামবাগ থানার পুলিশ। নিয়ে আসা হচ্ছে রাজ্যে। এই দুর্নীতিতে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন পুরসভার অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুণ্ডু, অস্থায়ী ইলেকট্রিক সুপারভাইজার কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায় ও এক ঠিকাদার। সূত্রের খবর, প্রাক্তন পুরপ্রধানকে হেফাজতে নিয়ে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চান তদন্তকারীরা। স্বপনকে পুরপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার জায়গায় দায়িত্ব নেন তৃণমূল নেতা সমীর ভান্ডারী। তিনিই আরামবাগ থানায় গ্রিন সিটি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ জানান। কিন্তু সেই সময় তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকায় তদন্তের অগ্রগতি হয়নি।
স্বপন পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে গেলেও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তৃণমূলের পুরনো রাজ্য কমিটির রাজ্য সম্পাদকও ছিলেন। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পরই তিনি আরামবাগ ছাড়েন। পুরনো মামলার তদন্তে নামে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। পলাতক ছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারীদের হাত থেকে বাঁচতে কার্যত ছদ্মবেশ ধরে ছিলেন তিনি। লুক বদল করতে গোঁফ কামিয়ে ফেলেন। কিন্তু তাতেও বাঁচতে পারেননি। গ্রেপ্তার হন।
উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে আরামবাগ পুরসভা থেকে গ্রিন সিটি প্রকল্পের সোলার বিদ্যুৎ প্যানেলের জন্য ই-টেন্ডার করা হয়। পুর এলাকার ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, ১১টি আপার প্রাইমারি ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬৪.৪৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার। যা থেকে বিদ্যালয়গুলির সঙ্গে আরামবাগ পুরসভার স্ট্রিট লাইটে ব্যবহার হবে বলে স্থির হয়। সেই গ্রিন সিটি প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন পুরবোর্ড, পুরসভার কর্মী ও পুরপ্রধান স্বপনের বিরুদ্ধে। আগেই ৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এবার গ্রেপ্তার করা হল প্রাক্তন পুরপ্রধানকে।