Trinamool leader
রাজ্যে পালাবদলের পরেই জেলায় জেলায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। অনেককেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারির সময়ে কিংবা আদালতে পেশ করার সময়ে অনেক নেতাকে লক্ষ্য করেই ডিম ছুড়তে দেখা গিয়েছে উত্তেজিত জনতাকে। আর এ বার তেমনই একটি ঘটনা দেখা গেল হুগলিতে। মঙ্গলবার সকালে হুগলির কোন্নগরে কানাইপুর বারজিবি তালতলা এলাকাতে রিষড়া গ্রাম পঞ্চায়তের তৃণমূলের উপপ্রধানকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন স্থানীয়রা। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উপপ্রধানকে বাঁচাতে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে দৌড় দেয় পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খাসজমি দখল করে বিক্রি করে দিচ্ছিলেন রিষড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শাহাজাদ হোসেন। মঙ্গলবার এলাকায় বুলডোজ়ার নিয়ে এসে এলাকায় একাধিক জমি ভরাট করছিলেন শাহাজাদ। তাঁদের আরও অভিযোগ, এই অঞ্চলে বেআইনি ভাবে রাস্তাও তৈরি করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি, পঞ্চায়েতের পূর্ত কর্মাধক্ষ গৌতম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ দিন তাঁকেও ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার এই ঘটনা জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। এলাকাবাসীর একাংশ এবং বিজেপির স্থানীয় কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। শাহাজাদকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ছোড়া হয় ডিমও। এরপরে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে প্রাণভয়ে পালাতে শুরু করেন শাহাজাদ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গৌতম চক্রবর্তীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। সেই সময়ে জমি দখলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘কে এমন অভিযোগ করেছে আমি জানি না। এমন কোনও ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটেনি।’ এ দিন কেন তাঁকে আটক করা হলো তা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘কেন পুলিশ আটক করল আমি কী করে জানব।’