আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ অভিযানের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি হীরন্ময় ভট্টাচার্য্যের নির্দেশে জানানো হয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত রেলের জমিতে আর কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। এই নির্দেশের ফলে যাদবপুর স্টেশন-সহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকা হকারদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।
গত রবিবার গভীর রাতে যাদবপুর রেল স্টেশন চত্বরে রেল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। আরপিএফ ও কলকাতা পুলিশের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে একাধিক দোকান ও স্থায়ী-অস্থায়ী নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। এই অভিযানের প্রতিবাদে বামপন্থী ও কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় নামেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা হকারদের কোনও বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বিক্ষোভের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে। যুব সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং সৃজন-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। পরে আলিপুর আদালত থেকে তাঁরা জামিন পান। তবে এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় হকারদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হকাররা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত জরুরি শুনানির অনুমতি দেয় এবং আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ জারি করে। আদালতের এই হস্তক্ষেপে হকাররা কিছুটা স্বস্তি পেলেও, আগামী ১৭ জুনের শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছেন সকলেই। ওই দিন আদালত হকারদের ভবিষ্যৎ, পুনর্বাসন এবং রেলের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।