দেশের লক্ষ লক্ষ গৃহিণীর অবদানকে নতুন করে স্বীকৃতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, গৃহস্থালির কাজ করা মহিলাদের শুধুমাত্র ‘গৃহবধূ’ বা ‘হোমমেকার’ বলে উল্লেখ করা তাঁদের প্রকৃত অবদানকে খাটো করে। আদালতের মতে, একজন গৃহিণী কেবল ঘরের কাজই করেন না, তিনি একটি পরিবার গড়ে তোলেন, সন্তানদের লালন-পালন করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিচারপতি সঞ্জয় করোলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, গৃহিণীদের করা গৃহস্থালির কাজ এবং পরিচর্যা পরিষেবার সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে। যদিও এই শ্রমের জন্য কোনও বেতন দেওয়া হয় না, তবুও পরিবারের স্থিতিশীলতা, মানবসম্পদ গঠন এবং সামাজিক উন্নয়নে এর অবদান অপরিসীম। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গৃহিণীদের শুধুমাত্র ‘হোমমেকার’ হিসেবে নয়, বরং ‘নেশন বিল্ডার’ বা ‘জাতি নির্মাতা’ হিসেবে দেখা উচিত।
রায়ে বিবাহিত জীবনে নারী-পুরুষের সমান দায়িত্বের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, বিয়ে মানে কোনও গৃহপরিচারিকা নিয়োগ নয়। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব শুধুমাত্র একজন মহিলার উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। স্বামী ও স্ত্রীর উভয়েরই সমানভাবে সংসার ও পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত।
একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, বিয়ের পর কোনও মহিলার নিজস্ব পরিচয় বা পেশাগত স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় না। একজন মহিলা যদি নিজের কর্মজীবন গড়তে চান এবং একইসঙ্গে পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন, তবে সেটিকে কোনওভাবেই নিষ্ঠুরতা বা অবহেলা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এছাড়াও মোটর দুর্ঘটনায় গৃহিণীদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, পরিবারের গৃহস্থালির পরিচর্যা পরিষেবার ক্ষতির মূল্য হিসেব করে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিবেচনা করা হবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গৃহিণীদের অবৈতনিক শ্রমের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী এবং ঐতিহাসিক রায়।