মালদহে চার জেলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের আগে নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রদর্শনী পরিদর্শনের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা হলে পশ্চিমবঙ্গ ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর পূর্ণ সুফল পাবে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে দেশের পরিকাঠামো, পরিবহণ, আবাসন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। সেই উন্নয়নের ধারা বাংলাতেও আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে সিঙ্গুর ও টাটা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তোলেন। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, বাংলার শিল্পোন্নয়নের স্বার্থে টাটা গোষ্ঠীকে আবারও রাজ্যে আনার চেষ্টা করা হবে। যদিও সিঙ্গুরের জমি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, তবুও নতুন শিল্প বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বহু শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারী পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
এই কারণে শিল্প সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শুধুমাত্র ঘোষণার রাজনীতি নয়, বরং বাস্তব বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প বিকাশই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
আগামী রাজ্য বাজেটেও উন্নয়নের স্পষ্ট ছাপ দেখা যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পরিবহণ, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে একাধিক নতুন প্রকল্পের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন।
মালদহ সফরের আগে শুভেন্দু অধিকারীর এই বার্তা রাজ্যের শিল্পমহল, ব্যবসায়ী মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন নজর থাকবে, আত্মনির্ভর বাংলা গড়ার এই পরিকল্পনা এবং শিল্পায়নের নতুন উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সফল হয় তার দিকে।