মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে বড়সড় অবস্থান পরিবর্তন করল আমেরিকা। ইরানের বিরুদ্ধে কড়া সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বৃহৎ সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ আরও সুগম হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সামনে আসার পর। সূত্রের দাবি, ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে হামলা চালানো হয়। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে তেহরান। ফলে গোটা অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই তাঁর অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যায়। নতুন বার্তায় তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসনের আলোচনার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদিও সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, তবুও হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মার্কিন নজরদারি ও অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাৎক্ষণিক যুদ্ধের ঝুঁকি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আলোচনার প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে আবারও সংঘাত তীব্র আকার নিতে পারে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতির দিকে এখন কড়া নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।