পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্ট করে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে যাতায়াতের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় হবে।
মোদী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের কারণে শুধু সংশ্লিষ্ট অঞ্চল নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা এবং বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বহু মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক সংকটও দেখা দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমেরিকা ও ইরানের এই নতুন বোঝাপড়া আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রবিবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সমঝোতার ঘোষণা করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নতুন পথ খুলে যাবে। একইসঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে চালু করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই চুক্তিকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রীও শান্তি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU)-এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে। ইরান স্পষ্ট করেছে, আমেরিকা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে কি না, তা যাচাই করার পরই ৬০ দিনের চূড়ান্ত আলোচনায় অংশ নেবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্ব-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারাও এই শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং বিশ্ব অর্থনীতির উপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।