Republican presidential nominee former President Donald Trump is pictured at an election night watch party, Wednesday, Nov. 6, 2024, in West Palm Beach, Fla. (AP Photo/Alex Brandon)
ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের, খুলতে পারে হরমুজ প্রণালী! স্বস্তির আশায় বিশ্ব
গত কয়েক মাস ধরে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এবং আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মধ্যপ্রাচ্য। সংঘাত যত বেড়েছে, ততই উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতির উপর বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এই পরিস্থিতিতেই বড় ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাম্পের কথায়, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।”
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী আবার সব ধরনের তৈলবাহী জাহাজের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্বের সব জাহাজ, ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ শুরু হোক।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে চালু হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমতে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ভারত-সহ একাধিক দেশের জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে ভবিষ্যতে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দামেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইৎজারল্যান্ডে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আগামী দিনে সত্যিই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কি না এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। সেই সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে বিশ্ববাজারে তেলের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।