নিট পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের বিতর্কের মধ্যেই ফের এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এল। উত্তরাখণ্ডের দেহরাদূনের পর এ বার তামিলনাড়ুর কোয়েম্বত্তূরে এক নিট পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতার নাম অনুকীর্তন। তিনি এ বছর নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিটের প্রথম পরীক্ষাটি অনুকীর্তন খুব ভাল দিয়েছিলেন। ভাল নম্বর পাবেন বলেও তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের দাবি। যদিও এর মধ্যেও তিনি নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অনুকীর্তনের ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। তবে সেই নোটে কী লেখা রয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি পুলিশ। ঘটনার পর কোয়েম্বত্তূরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশ বিক্ষোভ দেখিয়ে নিট পরীক্ষা বন্ধের দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই তামিলনাড়ু সরকার নিট পরীক্ষার বিরোধিতা করে আসছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই পরীক্ষার চাপ বহু পড়ুয়ার উপর গুরুতর মানসিক প্রভাব ফেলছে। আশানুরূপ ফল না হওয়া বা পরীক্ষার অনিশ্চয়তার কারণে বহু ছাত্রছাত্রী হতাশায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তামিলনাড়ু নয়, এর আগে মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডের দেহরাদূনেও এক নিট পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, তিনি আগেও কয়েকবার নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন, কিন্তু সফল হননি। এ বছরও পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা বাতিলের পর তিনিও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানা যায়।
এ বছর নিট পরীক্ষা হয়েছিল ৩ মে। ৭ মে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এরপর ১২ মে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করে। আগামী ২১ জুন ফের নিট পরীক্ষা নেওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই একের পর এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নিট ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।