Maharashtra
ভাঙা ঘরে ফের ভাঙনের সুর। মহারাষ্ট্রে আবারও ভাঙতে চলেছে উদ্ধব শিবির। দলের সাংসদদের কয়েক জনের সঙ্গে নাকি যোগাযোগ করতে পারছেন না পার্টির সুপ্রিমো। উদ্ধব-ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় রাউতের দাবি, দলের সাংসদদের দল ভাঙানোর জন্য আগাম ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অফার করা হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছে দর। শুধু তাই নয়, সাংসদের জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতা অনুযায়ীও চলছে দলবদলের জন্য দর কষাকষি। সূত্রের খবর, উদ্ধব শিবিরের সাত সাংসদ বুধবারই শিবির বদলের কথা ঘোষণা করতে পারেন।সঞ্জয় রাউতের কথায়, মহারাষ্ট্রে এখন চলছে ‘অপারেশন টাইগার’। গত কয়েকদিনে উদ্ধব শিবিরের ভাঙনের খবরে সরগরম রাজনৈতিক ময়দান। এমনকী দিল্লিতে একনাথ শিন্ডের ছেলে শ্রীকান্তর সঙ্গে UBT-র একাধিক লোকসভা সাংসদের বৈঠকের খবরও সামনে আসে।
রাউতের দাবি, এই বৈঠকে যোগ দিতে দলের দুই সাংসদকে নান্দেদ বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসার জন্য একটি প্রাইভেট জেটও পাঠানো হয়েছিল। বিদ্রোহী সাংসদদের কটাক্ষ করে সঞ্জয় বলেন, ‘ওদের রিকশায় চড়ারও সামর্থ্য ছিল না। কিন্তু ঠাকরে নামটি তাঁদের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণের যোগ্য করে তুলেছে।’ সূত্রের খবর, এই বৈঠকের খবর সামনে আসতেই উদ্ধব ঠাকরে সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোনে তাঁদের সাড়া মেলেনি। যদিও সঞ্জয় রাউতের দাবি, অটুট রয়েছে UBT। অন্যদিতে, উদ্ধব সেনা ‘বিদ্রোহীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বুধবার দিল্লিতে সব সাংসদদের বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে যোগ না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, শিবসেনা (UBT)-র ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে অন্তত ছয় জন একনাথ শিন্ডে শিবিরের দিকে পা বাড়িয়েছেন। তাঁরা হলেন— সঞ্জয় দিনা পাতিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাতিল অষ্টিকর, ওমরাজে নিম্বলকার, ভৌসাহেব ওয়াকচৌরে এবং সঞ্জয় যাদব। এ ছাড়াও, রাজাভাউ ওয়াজেও বিদ্রোহী ছয় সাংসদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন বলেও জল্পনা। সূত্রের খবর,‘বিদ্রোহী’ UBT সেনা সাংসদরা বুধবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং একটি পৃথক দল গঠনের জন্য তাদের চিঠি জমা দিতে পারেন। পরে এই সাংসদরা শিন্ডে সেনার সঙ্গে জুড়ে যেতেন পারেন বলে দাবি। এই পরিস্থিতি ঠেকাতেই অরবিন্দ সাওয়ান্ত লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন— যদি কোনও আলাদা গোষ্ঠী তৈরির দাবি ওঠে, তা যেন দ্রুত স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। তাঁর যুক্তি, শিবসেনার প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিয়ে মামলা এখনও আদালতের বিচারাধীন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের শিবসেনা ভাঙনের পর মহারাষ্ট্রে সাংগঠনিক শক্তি ও সাংসদ সংখ্যা নিয়ে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। এ বার যদি সাংসদ স্তরেও বড়সড় পরিবর্তন ঘটে, তা হলে তা শুধু লোকসভায় সংখ্যার সমীকরণ নয়, ভবিষ্যতের মহারাষ্ট্র রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে এই শিবির বদল।