ফিরছে কলকাতার ট্রামের সুদিন! আধুনিক রূপে ঐতিহ্য বাঁচাতে বড় উদ্যোগ রাজ্য সরকারের
কলকাতার ১৫৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী ট্রাম পরিষেবাকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনতে বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। শহরের অন্যতম পরিচয় বহনকারী এই দূষণহীন গণপরিবহনকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের নতুন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, ট্রাম পরিষেবাকে আরও কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করে তুলেই নতুনভাবে শহরের রাস্তায় ফিরিয়ে আনা হবে।
পরিবহন মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ট্রাম পরিষেবা তুলে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বরং বর্তমানে যে সীমিত পরিসরে ট্রাম চলাচল করছে, তা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। এখন ধর্মতলা-শ্যামবাজার এবং ধর্মতলা-গড়িয়াহাট—এই দুটি রুটে ট্রাম চলাচল করছে। তবে ভবিষ্যতে আরও কোন কোন রুটে ট্রাম চালানো সম্ভব, তা খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই সমীক্ষা শুরু করা হবে।
পরিবহন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কলকাতার অধিকাংশ পুরোনো ট্রাম এখন প্রায় অচল অবস্থায় পৌঁছেছে। সেগুলি সংস্কার করতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে বিদেশ থেকে আধুনিক ও হালকা ওজনের ট্রাম আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার আদলে তৈরি অত্যাধুনিক ট্রাম কলকাতায় চালুর বিষয়ে সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রস্তাব জমা পড়েছে। সেই প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখে শহরের পরিকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ট্রাম পরিষেবা চালুর রূপরেখা তৈরি করা হবে।
নতুন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ধর্মতলা থেকে খিদিরপুর রুটে ট্রাম পরিষেবা পুনরায় চালু করা। ময়দানের সবুজ পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্যবাহী রুটকে কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। পর্যটন ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে পরিবহন মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, আগের সরকারের ভুল পরিকল্পনা, অযথা ব্যয় এবং দুর্নীতির কারণে পরিবহন দফতর আর্থিক সংকটে পড়েছিল। তারই প্রভাব পড়ে ট্রাম পরিষেবার উপর। তবে বর্তমান সরকার ট্রামপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে এশিয়ার প্রাচীনতম ট্রাম নেটওয়ার্ককে সংরক্ষণ ও আধুনিকীকরণের পথে এগোতে বদ্ধপরিকর। সরকারের এই ঘোষণায় আশাবাদী শহরের ট্রাম অনুরাগীরাও। তাঁদের আশা, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কলকাতার ট্রাম আবারও শহরের গর্ব ও আকর্ষণের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠবে।