রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এক তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন তৃণমূলপন্থী কয়েকজন বিধায়ক। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব এবং রহিম বক্সি। একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, বেলেঘাটার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারের গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই বৈঠকের সূত্রপাত। কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রকৃত অপরাধের ক্ষেত্রে দলের কোনও আপত্তি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।
এদিকে, সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের দুই পিএসও স্বরূপ গোস্বামী এবং কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে সরিয়ে দেওয়া হয়। গত প্রায় দুই দশক ধরে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং মমতার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাঁর জন্য নির্ধারিত জেড প্লাস নিরাপত্তা বলয় সম্পূর্ণ বহাল রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও কাটছাঁট করা হয়নি।
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো নিরাপত্তা টিমকে পুনর্বহালের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর অভিযোগ এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পরিষদীয় বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
যদিও বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংলাপ ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।