বিয়ের পর জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী Samantha Ruth Prabhu। ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্কের গভীরতা এবং সমাজে নারীদের উপর তৈরি হওয়া চাপ—এই তিনটি বিষয় নিয়েই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা মত প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালে পরিচালক Raj Nidimoru-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকে তাঁর জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তন।সামান্থার কথায়,এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত,স্থির এবং আত্মবিশ্বাসী অনুভব করেন।জীবনের সিদ্ধান্তগুলোতে এসেছে নতুন ভারসাম্য,যা তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ব্যক্তিগত জীবনকে দিয়েছে নতুন দিশা।
সাক্ষাৎকারে সামান্থা তাঁদের দাম্পত্য জীবনের সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।তিনি জানান, স্বামী রাজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ভিত্তি হলো গভীর বোঝাপড়া, আস্থা এবং খোলামেলা যোগাযোগ।জীবনের ছোটখাটো বিষয় থেকে শুরু করে বড় সিদ্ধান্ত—সবকিছুই তাঁরা একসঙ্গে বসে আলোচনা করে নেন।এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগেও তিনি রাজের মতামত গুরুত্ব সহকারে শোনেন।সামান্থার মতে, রাজের বাস্তববাদী ও স্থির চিন্তাভাবনা অনেক সময় তাঁকে আবেগের প্রভাব থেকে বেরিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।বিনোদন জগতের চাপ,জনপ্রিয়তার ভার এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তাঁদের সম্পর্ক শক্তভাবে টিকে আছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা,বিশ্বাস এবং বোঝাপড়ার কারণে।
তবে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকেননি সামান্থা, সমাজে নারীদের অবস্থান নিয়েও তিনি স্পষ্ট ও সাহসী বক্তব্য রাখেন।তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,আজও সমাজে নারীদের নির্দিষ্ট কিছু ছাঁচে ফেলার প্রবণতা রয়েছে—যেমন ভালো রান্না জানা,গান গাওয়া,সংসার সামলানো এবং নিখুঁতভাবে সব দায়িত্ব পালন করা।কিন্তু তিনি নিজেকে সেই তথাকথিত “পারফেক্ট নারী”-র সংজ্ঞার মধ্যে ফেলতে পারেন না বলেও অকপটে স্বীকার করেন।তিনি প্রশ্ন তোলেন,“সব গুণ না থাকলে কি একজন নারীর মূল্য কমে যায়?” তাঁর মতে, প্রত্যেক মানুষেরই আলাদা প্রতিভা,সীমাবদ্ধতা এবং নিজস্ব পরিচয় রয়েছে,আর সেটাকেই গ্রহণ করা উচিত। সমাজের চাপিয়ে দেওয়া মানদণ্ডের বদলে ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্যকেই সম্মান করা দরকার।