আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুকাণ্ডে ফের নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলায় এবার বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়িকা রত্না দেবনাথ। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনার নেপথ্যে মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করেছেন আবেশ ব্যানার্জি।
রত্না দেবনাথের অভিযোগ, আবেশ ব্যানার্জি সরাসরি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। উল্লেখ্য, আবেশ ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো কার্তিক ব্যানার্জির ছেলে এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুতো ভাই। এই নাম সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ঘটনার স্থান নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিধায়িকা। তাঁর বক্তব্য, সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (CFSL) রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছে যে তরুণী চিকিৎসককে হাসপাতালের সেমিনার রুমে খুন করা হয়নি। বরং হাসপাতালের পিজিটি (PGT) রুমেই খুনের ঘটনা ঘটেছিল বলে তাঁর দাবি। পরে দেহ সেখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
রত্না দেবনাথের দাবি, ঘটনার দিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তথ্য-প্রমাণ নষ্ট এবং ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই কারণেই দেহটি সেমিনার রুমে এনে রাখা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর কথায়, মূল অপরাধস্থলকে আড়াল করতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরের মদত ছাড়া এত বড় ঘটনার পর তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, এই পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল আবেশ ব্যানার্জির।
এই বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সিবিআই তদন্ত নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্যাতিতার পরিবার এবং বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন, এতদিন কেন এই সম্ভাব্য সূত্রগুলি খতিয়ে দেখা হয়নি। নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের দিশা বদলাবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।