বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দলের ভিতরে অসন্তোষ ও মতপার্থক্য ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের একাধিক সম্পত্তি নিয়ে কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিস নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রথমে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে একাধিক নোটিস জারি করে। এরপর সম্পত্তির ব্যবহার ও চরিত্র পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট বিভাগ থেকেও নোটিস পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে মোট ১৭টি নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে ১৪টি নোটিস পাঠানো হয়েছে ৯ নম্বর বরো এলাকার বিভিন্ন ঠিকানায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়াও রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, বিল্ডিং বিভাগের তরফে জারি হওয়া নোটিস সম্পর্কে মেয়রকে আলাদা করে অবহিত করার কোনও নিয়ম নেই। অন্যদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেছেন, যার নাম এই ঘটনায় জড়িয়েছে, তাঁর পক্ষ থেকেই বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। ফলে দলীয় নেতৃত্বের এই অবস্থানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর থেকেই দলের অন্দরে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। একাধিক নেতা-কর্মীর মন্তব্য এবং অবস্থান ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন নেতাকে ঘিরেও বিতর্ক সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার নোটিসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা এবং জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যু কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের।