ভারতীয় সঙ্গীতজগতের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র—আশা ভোঁসলে ও এ আর রহমান।একদিকে কয়েক দশক ধরে অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দেওয়া কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী, অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সঙ্গীতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া অস্কারজয়ী সুরকার-এই দুই শিল্পীর নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হলেই তৈরি হয় বিশেষ আবেগ।গত এপ্রিল মাসে ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন আশা ভোঁসলে। তাঁর চলে যাওয়া ভারতীয় সঙ্গীতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখেছেন অনুরাগীরা।তবে তাঁর কণ্ঠের জাদু যে কখনও হারিয়ে যাওয়ার নয়,তারই প্রমাণ মিলল বিশ্ব সঙ্গীত দিবসের আবহে।এ আর রহমান সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন আশা ভোঁসলের জীবনের শেষ রেকর্ড করা গানের টিজার,যা সামনে আসতেই আবেগে ভেসেছেন লক্ষ লক্ষ সঙ্গীতপ্রেমী।
এই বিশেষ গানটির নেপথ্যে রয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী গল্প। রহমান জানিয়েছেন,আশা ভোঁসলে জীবিত থাকাকালীনই এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।তাঁর স্বপ্ন ছিল, গানটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর আশা নিজেই তা শুনবেন এবং ভক্তদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অনুভব করবেন।কিন্তু সময় সেই সুযোগ দেয়নি।তবুও শিল্পীর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এবং তাঁর অসামান্য অবদানকে সম্মান জানাতে কাজটি শেষ করা হয়েছে অত্যন্ত যত্ন ও আবেগের সঙ্গে। রহমানের কথায়,এটি শুধুমাত্র একটি গান নয়,বরং একজন কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি সঙ্গীতজগতের সম্মিলিত শ্রদ্ধার্ঘ্য। তাই এই প্রজেক্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা কৌতূহল এবং প্রত্যাশা।
প্রকাশিত টিজারে দেখা গিয়েছে রেকর্ডিং স্টুডিওর কিছু বিশেষ মুহূর্ত,যেখানে উপস্থিত ছিলেন আশা ভোঁসলে নিজে।পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরানার শিল্পী,সঙ্গীতশিল্পী ও পারফর্মারদের অংশগ্রহণ এই প্রজেক্টকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আশা ভোঁসলের পরিচিত হাসিমাখা মুখের ঝলক যেন অনুরাগীদের মনে ফিরিয়ে এনেছে অসংখ্য স্মৃতি।টিজার প্রকাশের পর থেকেই সমাজমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার বন্যা বইছে।অনেকেই লিখেছেন,এটি শুধুমাত্র একটি নতুন গান নয়,বরং ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের শেষ অধ্যায়ের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ।গানটি মুক্তির অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছেন অনুরাগীরা।তাঁদের বিশ্বাস,আশা ভোঁসলের সেই অমর কণ্ঠ আবারও একবার ছুঁয়ে যাবে কোটি মানুষের হৃদয় এবং প্রমাণ করবে—প্রকৃত শিল্পীরা কখনও হারিয়ে যান না,তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের সৃষ্টির মধ্যেই।